যেসব প্রশ্ন করা হচ্ছে প্রাথমিকের মৌখিক পরীক্ষায়

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ এর মৌখিক পরীক্ষা চলছে। প্রথম ধাপের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে ১২ জুন ও দ্বিতীয় ধাপের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে ১৯ জুন থেকে। আগামী ৩ জুলাই থেকে শুরু হবে তৃতীয় ধাপের মৌখিক পরীক্ষা।

বরাবরের মতো এবার পরীক্ষাগুলো উপজেলা ভিত্তিক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ধাপে ধাপে পরীক্ষা গ্রহণ শেষে প্রকাশ করা হয়ে চূড়ান্ত ফল। এবার সারাদেশ থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক। ফলে এই নিয়োগ পরীক্ষা সবার আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। যারা ইতোমধ্যে মৌখিক পরীক্ষা দিয়েছেন, তাদের জন্য শুভকামনা। মূলত যারা সামনে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন, তাদের জন্য আজকের আয়োজন।

সম্প্রতি শেরপুর থেকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ইসরাত জাহান ও সিরাজগঞ্জ থেকে আব্দুল মজিদ শেখ। চলুন তাদের বয়ানে জেনে নেওয়া মৌখিক পরীক্ষার বাস্তব অভিজ্ঞতা-

নাম: ইসরাত জাহান
পরীক্ষা গ্রহণের তারিখ: ১৫ জুন ২০২২
জেলা: শেরপুর 

ইসরাত জাহান: আসতে পারি? 
স্যার: আসুন।
ইসরাত জাহান: আসসালামু আলাইকুম স্যার।
স্যার: উত্তর দিলেন। বসতে বললেন। 
ইসরাত জাহান: বসলাম।
স্যার: আপনার নাম কি?
ইসরাত জাহান: নাম বললাম।
স্যার : আপনি তো অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। বলেন তো, প্রাইমারিতে অর্থনীতি নিয়ে বাচ্চাদের কী শেখাবেন?
ইসরাত জাহান: কীভাবে অসীম অভাবকে সীমিত সম্পদ দ্বারা পূরণ করা যায়- তা শেখাব।
স্যার: এত ছোট বাচ্চারা কী এইগুলো বুঝবে? অন্য ভাবে বোঝান?
ইসরাত জাহান: আমি তো হাসছি। কি বলবো বুঝতে পারছি না। 
অন্য স্যার : আচ্ছা বলেন, তো প্রাইমারিতে শিশুদের পড়ানোর জন্য একটি শ্রেণি আছে তার নাম কি?
ইসরাত জাহান: বললাম প্রাক-প্রাথমিক শিশু শ্রেণি।
স্যার: এইখানে বাচ্চাদের কি পড়ানো হয় জানেন কি?
ইসরাত জাহান: বিভিন্ন কার্টুন, ছবি, পোস্টার এইগুলা দেখানো হয়। এইগুলো থেকে শিখানো হয়।
স্যার : আপনার মৌলিক  বিষয় সম্পর্কে ধারণা আছে তাহলে। 
আবার আগের স্যার ঃ আচ্ছা আপনি যে প্রাইমারিতে চাকরি করবেন, আপনার মধ্যে কী এমন গুন আছে, শিশুরা আপনার প্রতি আকৃষ্ট হবে? 
ইসরাত জাহান: আমার শিশুদের সঙ্গে মিশতে ভালো লাগে। 
স্যার : আপনার ভালো লাগে বুঝলাম। কিন্তু শিশুদের কেন ভালো লাগবে?
ইসরাত জাহান: কি বলবো বুজতে পারছি না। একটু হাসছি। তখন স্যার প্রশ্নটা সহজ করে দিলো। বলল, আপনি কি ছড়া, গান, কবিতা এইগুলা পারেন? বললাম, হ্যাঁ স্যার পারি। এখন কি প্র্যাকটিস আছে বলতে পারবেন? বললাম, হ্যাঁ স্যার পারবো। বললেন ঠিক আছে বলতে হবে না।
আবার আগের স্যার ঃ আপনি এসএসসি কোন স্কুল থেকে পাশ করছেন, এসএসসি কোন কলেজ, অনার্স, মাস্টার্স কোথা থেকে?
ইসরাত জাহান: বললাম। 
স্যার : আচ্ছা ঠিক আছে । এই নেন আপনার কাগজ পত্র। আপনি এখন আসেন।
ইসরাত জাহান: সালাম দিয়ে বেরিয়ে আসলাম।

নাম : আব্দুল মজিদ শেখ
পরীক্ষা গ্রহণের তারিখ : ২০ জুন, ২০২২
জেলা : সিরাজগঞ্জ

আব্দুল মজিদ শেখ: আসতে পারি, স্যার? 
এডিসি: হ্যাঁ, আসুন আসুন।
আব্দুল মজিদ শেখ: সালাম দিলাম। বসতে বললেন, ধন্যবাদ দিয়ে বসলাম।
এক্সার্নাল ম্যাম: আপনি কী করেন এখন?
আব্দুল মজিদ শেখ: ম্যাম টিউশন আর চাকরির জন্যে পড়াশোনা।
এডিসিঃ স্যার, আমাকে প্রথমেই নির্ধারিত কাগজে, বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ লিখতে বললেন এবং ডিপিও স্যারকে প্রয়োজনীয় সনদপত্র দিতে বললেন।
আব্দুল মজিদ শেখ:  ডিপিও স্যারকে সনদপত্র দিলাম এবং বাংলা বাক্য লিখলাম।
এডিসি: আচ্ছা, আপনি কোথায় পড়াশোনা করেছেন, কোন বিষয়ে?
আব্দুল মজিদ শেখ: বললাম ব্যবস্থাপনা, ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালের অধিভুক্ত।
এডিসি: কোন হলে থেকেছেন?
আব্দুল মজিদ শেখ: আমি ঢাকা কলেজ এ পড়েছি।
এডিসি: ওহ আচ্ছা। আগে ঢাকা কলেজে চান্স পাওয়া কত যে কষ্টের ছিল। আচ্ছা আপনি তো ম্যানেজমেন্ট আরেক স্যারের দিকে তাকিয়ে কথা বলেন।
আব্দুল মজিদ শেখ: আমি ঘুরে বসলাম।
এক্সার্নাল স্যার ও ম্যাম: আচ্ছা বলুন তো, বর্তমানে দ্রব্যমূল্য এত বেশি কেন?
আব্দুল মজিদ শেখ: বললাম।(সন্তুষ্ট)
এক্সার্নাল: এ ক্ষেত্রে সরকার ও জনগণের ভূমিকা কী?
আব্দুল মজিদ শেখ: বললাম (সন্তুষ্ট)।
এক্সার্নাল: আচ্ছা বলুন তো, যদি কোম্পানিতে ৫ জন কর্মকর্তা থাকে, এদের মধ্যে একজন অমনোযোগী ও কাজের প্রতি উদাসীন, তখন আপনি কীভাবে ম্যানেজ করবেন?
আব্দুল মজিদ শেখ: বললাম মোটিভেশন দিয়ে বা তার অমনোযোগী হওয়ার কারণ খুঁজে বের করব।
এক্সার্নাল : কীভাবে মোটিভেশন দিবেন?
আব্দুল মজিদ শেখ: আর্থিক বা অ-নার্থিক ভাবে।
এক্সার্নাল : আর্থিক মোটিভেশন হলো অর্থ বা টাকা দিয়ে যেমন: বেতন বৃদ্ধি, বোনাস, চিকিৎসা ভাতা ইত্যাদি দিয়ে আর অনার্থিক হলো কাজের নিরাপত্তা ও কাজের প্রশংসা করে।
এক্সার্নাল : ৪ জন যদি মানতে না চায় কোম্পানি তো লস করবে, তখন কী করবেন?
আব্দুল মজিদ শেখ: তাহলে সবাইকে নিয়ে মিটিং করে, সবার মতামত নিয়ে একটা সিদ্ধান্ত নিলে কারো কোন অভিযোগ থাকবে না।
এক্সার্নাল : ভেড়ি গুড।
আব্দুল মজিদ শেখ: ধন্যবাদ
এডিসি: আচ্ছা, আপনি কী আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ স্যারকে চিনেন।
আব্দুল মজিদ শেখ: জী, স্যার। উনি ঢাকা কলেজের একজন খ্যাতিমান প্রভাষক ছিলেন। তার অনেক লেকচার শুনেছি কিন্তু কাছ থেকে কথা বা দেখা হয়নি।
এক্সার্নাল: আচ্ছা , মজিদ সাহেব, কাজী নজরুল একটা কবিতা ২ লাইন বললেন, একটা শব্দের অর্থ জানতে চাইলেন, ( আমার মনে পড়তেছে না।)
আব্দুল মজিদ শেখ: দেখলাম তিনি ওরার হাত দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। আন্দাজ করে বললাম যে রকেট.....ব্যাস উনি খুশি হলেন।
এডিসি: আপনাকে কী সাহিত্য থেকে প্রশ্ন করতে পারি?
আব্দুল মজিদ শেখ: শিউর স্যার।
এডিসি: বলেন তো বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের শ্লোগান কী?
আব্দুল মজিদ শেখ: বললাম আলোকিত মানুষ চাই।
এক্সার্নাল ম্যাম: মিষ্টি হাসি ‍দিয়ে বললেন , আপনা কী Idiom and Pharse থেকে প্রশ্ন করতে পারি?
আব্দুল মজিদ শেখ: শিউর ম্যাম।
এক্সার্নাল ম্যাম : At the eleventh hour  মানে কী? make sentence করুন।
আব্দুল মজিদ শেখ: শেষ মুহুর্ত। I came to my office at the eleventh hour?
এক্সার্নাল ম্যাম: এখন, আমাদের একটা গান বা কবিতা শোনান।
আব্দুল মজিদ শেখ: শোন একটি মুজিবরের থেকে.......... বললাম
এডিসি: ‍মুজিবরকে খুঁজে পাচ্ছি না। কেমন জানি হলো
আব্দুল মজিদ শেখ: স্যার কবিতা তো এমন করে সবাই বলে?
এডিসি: বলেন তো কবিতা কখন গান হয়?
আব্দুল মজিদ শেখ: স্যার সুর দিলে।
এডিসি: তাহলে সুর দিন।
আব্দুল মজিদ শেখ: স্যার তাহলে, গান ই বলি।
এডিসি: বলেন..
আব্দুল মজিদ শেখ: ধনধান্য পুষ্পে ভরা  আমাদের এই ........৪/৫ বলার পর
এক্সার্নাল ম্যাম : থামিয়ে দিয়ে ...ধন্যবাদ আপনাকে ..। আপনি এখন আসতে পারেন।
আব্দুল মজিদ শেখ: কাগজপত্র নিয়ে চলে আসলাম। সঙ্গে ধন্যবাদ ও সালাম দিয়ে বেড়িয়ে আসলাম।


Post a Comment

Previous Post Next Post